পৃষ্ঠাসমূহ

Friday, July 1, 2016

বর্জনীয় কাজ


বর্জনীয় কাজ

রোযা অবস্থায় করণীয় যেমন অনেক রয়েছে ঠিক তেমনিভাবে বর্জনীয়ও অনেক কাজ রয়েছে। যেমন:
১. মিথ্যা কথা ও অসৎ কাজ করা: রাসূর (সা:) বলেন, যে ব্যক্তি রোযা রেখে মিথ্যা কথা এবং অসৎ আমল বর্জন করে না, আল্লাহর নিকট তার ক্ষুধাও পিপাসার কোন মূল্য নেই। (বুখারী শরীফ)
২. জবানের হেফাজত: রোযা অবস্থায় বেফায়দা অনর্থক কোন কথা বলা যাবে না। অন্যকে গাল-মন্দ করা যাবে না। অশ্লিল কথা বর্জন করতে হবে রাসুর (সা:) বলেন রোযা হল (জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষার) ঢাল স্বরূপ। সুতরাং যদি কেউ রোযাদার হয় তাহলে তার উচিত অশ্লিল কথা বা নির্লজ্জ কথা না বলা, গুনাহে লিপ্ত না হওয়া। কেউ যদি তোমাকে গালি দেয় তাহলে তাকে বলে দিবে ভাই আমি রোযাদার। সুতরাং রমযান মাসের সম্মানার্থে বিশেষ করে টেলিভিশন বন্ধ রাখা পত্যেক মুমিনের জন্য আবশ্যক। (বুখারী মুসলীম)
৩. পুরো শরীরে রোযা রাখা: রোযা অবস্থায় হাত, পা, কানসহ পুরো শরীরও যাতে রোযা রাখে এমন কাজ করতে হবে অর্থাৎ এমন যাতে না হয় যে, রোযা রাখা ও না রাখা দু’টাই বরাবর। প্রত্যেকটা অঙ্গ প্রত্যেঙ্গকে গুনাহ থেকে হেফাজত রাখতে হবে টেলিভিশন দেখা, নাটক শুনা, গল্পের ও উপন্যাসের বই পড়া ইত্যাকার কাজ বর্জন করা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাওফীক দান করুন।

কাসিমুল উলুম আরাবিয়া মাদরাসা
বনশ্রী পূর্বাঞ্চল আবাসিক এলাকা, মেরাদিয়াহাটের দক্ষিন পার্শে, 
রামপুরা-ষ্টাফ কোয়াটার লিংক রোড, খিলগাঁও, ঢাকা।
যোগাযোগ:01912801598

রমযানে করণীয় কিছু আমল


রমযানে করণীয় কিছু আমল
রমযান মাসের গুরুত্বপূর্ণ সময়কে অহেতুক কাজে নষ্ট করা যাবে না, বরং সময়কে মূল্যায়ন করা এবং কাজে লাগানো উচিত, বিশেষ করে কিছু আমলের কথা উল্লেখ করা হল, এর প্রতি যত্মবান হওয়ার চেষ্টা করা উচিৎ।
১. রোযা রাখা: রমজানের রোযা রাখা। কারণ আল্লাহ তাআলা রোযা সম্পর্কে বলেন, রোযা আমার জন্য আর আমি নিজেই তার বদলা দিব।
২. তারাবী নামায পড়া: ইশার নামাযের পর বিশ রাকাত তারাবী নামায পড়া। খোলাফায়ে রাশেদীনের যুগ থেকে তারাবী নামায বিশ রাকাত পড়ার আমল চলে আসছে এবং প্রাচ্য থেকে প্রতিচ্যে সমস্ত উম্মত যুগে যুগে এর উপর আমল করে আসছেন। হারামাইন শরীফেও তার উপর আমল বহাল রয়েছে। সুতরাং আমাদেরও উচিত বরকতময় এই মাসে সাহাবায়ে কেরাম,তাবেঈন, তাবে-তাবেঈন, আইম্যায়ে মুজতাহিদীনের অনুসৃত পথ অবলম্বন করে বিশ রাকাআত তারাবী নামায পড়া।
৩. তাহাজ্জুদ নামায পড়া: স্বাভাবিকভাবেই শেষ রাতে সাহরী খাওয়ার জন্য আমরা সবাই ঘুম থেকে উঠে থাকি। এই সময় অত্যন্ত বরকত পূর্ণ সময়। সুতরাং যথাসম্ভব চার থেকে বার রাকাত পর্যন্ত যত রাকাত সম্ভব তাহাজ্জুদ পড়ে নেয়া ভাল। তাহাজ্জুদ নামায পড়া রাসুল (সা:) এর অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। সাহাবায়ে কেরামও নিয়মিত তাহাজ্জুদ পড়তেন।
৪. ফজরের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত মসজিদে বসে থাকা: রাসূল (সা:)
ফজরের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত মসজিদে বসে থাকতেন (মুসলিম শরীফ)। হযরত আনাস (রা:) বলেন রাসূল (সা:) বলেছেন,
যে ব্যক্তি জামায়াতের সাথে ফজরের নামায পড়ে সূর্যোদয় পর্যন্তআল্লাহর জিকিরে লিপ্ত থাকে তারপর দুই দুই চার রাকাত (ইশরাক) নামাজ পড়ে তাহলে সে পরিপূর্ণ একটি হজ্জ এবং একটি উমরার সাওয়াব পাবে। (তিরমিজি শরীফ)।
এটা তো অন্যান্য মাসের কথা, রমজানে তো এর সাওয়াব আরো অনেক গুণ বেড়ে যাবে।
৫. বেশি করে কুরআন তিলাওয়াত করা: এই মাসে বেশি করে কুরআন তিলাওয়াত করা এবং তিলাওয়াতের সময় মনোযোগী হওয়া উচিত। হযরত জিব্রাইল ( আ:) রমজান মাসে রাসূল (সা:) এর সাথে কুরআনে কারীমের দাউর করতেন। সম্ভব হলে বিজ্ঞ আলেমের পরামর্শে কুরআনের তরজমা পড়া ।
৬. দান সদাকা করা: রাসুল (সা:) সবচেয়ে বেশি দানশীল ছিলেন। আর রমযান আসলে দান আরো ব্যাপক হয়ে যেত্ । হযরত আনাস (রা:) বলেন, রাসূল (সা:) ইরশাদ করেছেন যে, রমযান মাসে দান সদকা করা সব চেয়ে বেশি উত্তম সদকা । (তিরমিজী শরীফ)
সুতরাং আমাদের উচিত এই মাসে বেশি বেশি দান সদকা করা। এর বিভিন্ন পদ্ধতি হতে পারে -গরীব মিসকিনদেরকে খানা খাওয়ানো, রোযাদারকেত ইফতার করানো, টাকা পয়সা দান করা ইত্যাদি।
৭. শেষ দশকে ইতিকাফ করা: পুরুষলোক মসজিদ আন মহিলারা তাদের গৃহের নামাযের স্থানে ইতকাফ করবে। রাসূর (সা:) প্রত্যেক রমযানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন, তাঁর জীবনের শেষ রমযানে ইতিকাফ করেছেন বিশ দিনের। ইতিকাফ সম্পর্কে সামনে আরো আলোচনা রয়েছে।
৮. শবেকদর: রমযান মাসে একটি রাত রয়েছে যাকে শবে কদর বলা হয়। যে রাতের ইবাদত হাজার বছরের চেয়েও উত্তম। আর সেই রাত তালাশ করতে হবে রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে।
৯. দু’আর ইহতেমাম করা: দুআ একটি উচুঁ স্তরের ইবাদত। রাসূল সাল্লাল্লাহু বলেন দুআ সকল ইবাদতের মস্তিস্ক। মূখ্য বিষয় তাই রমযান মাসে দুআন ইহতিমাম করবে। হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা: থেকে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন রমযান মাসে প্রত্যহ রাতে ও দিনে আল্লাহ তাআলা জাহান্নামের কয়েদীদের মুক্তি দিয়ে থাকেন এবং প্রত্যেহত মুসলমানের কমপক্ষে একটি দুআ কবুল করে থাকেন। তাই দিনে রাতে যখন সম্ভব হয় বিশেষ করে শেষ রাতেও ইফতারীর সময় নিজের দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ কামনা, মৃতদের রূহের মাগফিরাত কামনা এবং সকল মুসলমান নর-নারীর কল্যান কামনা ও কাফেরদের হেদায়েতের দুআ করা উচিত।
১০. চারটি কাজ বেশি বেশি করা।
১. বেশি বেশি কালিমা পড়া। ২. এস্তেগফার বেশি বেশি করে পাঠ করা। ৩. জাহান্নাম থেকে মুক্তির ও ৪. জান্নাতে প্রবেশের জন্য বেশি বেশি দুআ করা।


কাসিমুল উলুম আরাবিয়া মাদরাসা
বনশ্রী পূর্বাঞ্চল আবাসিক এলাকা, মেরাদিয়াহাটের দক্ষিন পার্শে, 
রামপুরা-ষ্টাফ কোয়াটার লিংক রোড, খিলগাঁও, ঢাকা।
যোগাযোগ:01912801598