পৃষ্ঠাসমূহ

Saturday, April 8, 2017

কালিমাসমূহের পরিচয় ও তার গুরুত্ব

কালিমাসমূহের পরিচয় ও তার গুরুত্ব

প্রত্যেক মুমিন ব্যক্তির জন্যই জরুরী হলো, নিম্নের কালিমাগুলোর উপর ও তার বিষয়াবলীর উপর অন্তর দিয়ে বিশ্বাস স্থাপন করা এবং এর দাবীর উপর সর্বদা অটল-অবিচল থাকা।
১. কালিমায়ে তায়্যিবা 
لَا إِلَه إِلَّا الله مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّه
অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোন মা’বূদ নেই, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল। (আল-ইস্তিযকার: ৮/২৩৭, ক্রমিক নং-১১২৩২)
২. কালিমায়ে শাহাদাত
أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ
অর্থ: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন মা’বূদ নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। (আল-মুসতাদরাক, হাদীস নং-৯)
৩. কালিমায়ে তাওহীদ
لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، يُحْيِي وَيُمِيتُ، بِيَدِهِ الْخَيْرُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ.
অর্থ: আল্লাহ ব্যতীত কোন মা’বূদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন অংশীদার নেই, তাঁর জন্যই রাজত্ব, তাঁর জন্যই সকল প্রশংসা, তিনিই জীবন ও মৃত্যু দান করেন। সকল কল্যাণ তাঁরই কুদরতি হাতে এবং তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। (মুসনাদে আহমাদ: ৬/২৯৮, হাদীস নং-২৬৫৫১)
৪. কালিমায়ে তামজীদ
سُبْحَانَ اللَّهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيمِ "
অর্থ: আল্লাহ তা’আলা সকল দোষ-ত্রুটি হতে পবিত্র এবং সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আল্লাহ ব্যতীত কোন মা’বূদ নেই, আল্লাহ সবচেয়ে বড়। গুনাহ থেকে বাঁচার ক্ষমতা এবং সৎ কাজ করার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে। তিনি অতি মহান ও মর্যাদাবান। 
(সুনানে আবূ দাউদ: ১/১২১, হাদীস নং-৮৩২)
৫. ঈমানে মুজমাল
آمَنْتُ بِالله كَمَا هُو بِأَسْمَائِهِ وَصِفَاتِهِ و قَبِلْتُ جَمِيع أَحْكَامه وَأَرْكَانِهِ.
অর্থ: আমি আল্লাহর প্রতি তাঁর সমুদয় নাম ও যাবতীয় গুণাবলীর সাথে ঈমান আনলাম এবং তাঁর যাবতীয় আদেশ-নিষেধ ও বিধি-বিধান মেনে নিলাম। (হাশিয়াতুশ শিহাব ‘আলা তাফসীরিল বায়যাবী: ১/২১৩, কাওয়াইদুল ফিকহ: ৪৪৭, আল ইসলাম সুওয়াল-জাওয়াব, ফাতওয়া নং: ১৯৮৫৬৮)
৬. ঈমানে মুফাসসাল
آمَنْتُ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِه وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّه من الله تَعَالَى وَالْبَعْثِ بَعْدَ الْمَوْتِ.
অর্থ: আমি ঈমান আনলাম আল্লাহর উপর, তাঁর ফেরেশতাগণের উপর, তাঁর কিতাবসমূহের উপর, তাঁর রাসূলগণের উপর, আখেরাতের উপর এবং তাকদীরের ভালো-মন্দের উপর; যা আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকে নির্ধারিত এবং মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত হওয়ার উপর। (সহীহ বুখারী: ১/১২, হাদীস নং-৫০, সহীহ মুসলিম: ১/২৭, হাদীস নং-৮)



আগেরটি পড়ুন

ঈমানের পরিচয়

ঈমানের পরিচয়

আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে মহানবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যত আহকাম তথা বিধি-বিধান লাভ করেছেন, ইহাকাল-পরকাল, জান্নাত-জাহান্নাম এবং পূর্ববর্তী নবী-রাসূল সম্পর্কে সংবাদপ্রাপ্ত হয়েছেন এবং অকাট্য দলীল দ্বারা তা প্রমাণিত হয়েছে, তার কোন একটি বাদ না দিয়ে সবগুলোকে মনে-প্রাণে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করার নাম হল ঈমান। আল্লাহ তা’আলার আদেশ-নিষেধের উপর সঠিকভাবে এবং পূর্ণাঙ্গরূপে আমল করার মাধ্যমে এ ঈমান কামেল তথা পরিপূর্ণ ও শক্তিশালী হয়। আর আল্লাহর আদেশ-নিষেধ পালনে ত্রুটি করলে ঈমান নাকেস তথা অসম্পূর্ণ ও দুর্বল হয়ে পড়ে। ঈমানের নূর নষ্ট হয়ে যায়। এ অবস্থা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে অথবা তওবা করে এ অবস্থা থেকে ফিরে না এলে, -আল্লাহ না করুন!- আমাদের ‘ঈমান নষ্ট হয়ে যেতে পারে’ (নাউযুবিল্লাহ!)। আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে তাঁর আদেশ-নিষেধ সঠিকভাবে পালন করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

ঈমানের গুরুত্ব

পূর্ণাঙ্গ ঈমান মুসলমানদের জন্য এমন এক ভিত্তি যার উপর পূর্ণ দ্বীনের অট্টালিকা দাঁড়িয়ে আছে। যার আক্বীদা যত বিশুদ্ধ ও সুদৃঢ় হবে, তার দ্বীনও তত বিশুদ্ধ ও সুদৃঢ় হবে। আর তার বিপরীতে যার আক্বীদা যত দুর্বল হবে তার দ্বীন ও ধর্মও তত দুর্বল হবে। সুতরাং আক্বীদা বিশুদ্ধ করা এবং হৃদয়ের বিশ্বাসকে সুদৃঢ় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আবশ্যক।



Friday, April 7, 2017

মুমিনের পুরস্কার

মুমিনের পুরস্কার

আল্লাহ তা’আলা বলেন,
إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَهُمْ جَنَّاتُ النَّعِيمِ 
অনুবাদ: নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তাদের জন্য রয়েছে নেয়ামতে পরিপূর্ণ জান্নাতসমূহ। (সূরা লুক্বমান: ৮)
অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে,
 وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ سَنُدْخِلُهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا. وَعْدَ اللَّهِ حَقًّا. وَمَنْ أَصْدَقُ مِنَ اللَّهِ قِيلًا 
অনুবাদ: যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, আমি তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাবো। যার তলদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত হবে। তারা চিরকাল সেখানে অবস্থান করবে। আল্লাহ তা’আলার প্রতিশ্রুতি সত্য। আল্লাহর চাইতে অধিক সত্যবাদী কে? (সূরা নিসা: ১২২)
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِت ، سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: ্রمَنْ شَهِدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ، حَرَّمَ اللهُ عَلَيْهِ النَّارَগ্ধ
অর্থ: উবাদা ইবনে সামেত রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি এ কথার সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন মা’বূদ নেই এবং হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল। তার উপর আল্লাহ তা’আলা জাহান্নামের আগুন হারাম করে দিবেন। (সহীহ মুসলিম: ১/৪৩, হাদীস নং- ২৯)